ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজ
প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৭২ খ্রিঃ


  • ইতিহাস
  • দক্ষিণ- পূর্ব বাংলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাগলনাইয়া সরকারী কলেজ প্রতিষ্ঠার গোড়াপত্তন হয় ১৯৭২ সালে। ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজের নাম উচ্চারনের সাথে সাথে আমাদের নিকট প্রতিভাত হয় ছাগলনাইয়া কলেজ সমিতির কথা। সময় ১৯৬৯ খ্রি. ফেনী মহকুমায় ফেনী কলেজ ছাড়া আর কোনো উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলো না। অথচ ফেনীর পূর্বাঞ্চলের সন্তার চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম গ্রাজুয়েট, যিনি শিক্ষার জন্য নিজের চিত্তকে বিলিয়ে ফেনীর পূর্বাঞ্চলে ৫ লক্ষাধিক জন অধ্যুষিত ব্যাপক এলাকায় একটি কলেজ স্থাপনের অপরিহার্যতা উপলব্ধি করে অত্র অঞ্চলের কেন্দ্রভূমি ছাগলনাইয়া থানা কেন্দ্রে একটি কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কফিল উদ্দিন আহমেদ ও কতিপয় তরুণ এ ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনার সূত্রপাত করেন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ঈদ-উল আযহার পরের দিন অর্থাৎ ১লা মার্চ অপরাহ্নে ছাগলনাইয়া হাইস্কুল মাঠে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জনাব এ জে এম খলিলুল্লাহ, বার-এট-ল কে পৃষ্ঠপোষক করে নিম্নে বর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

    ১| জনাব এস এইচ চৌধুরী, সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন)

    ২| জনাব সলিমুল্লাহ চৌধুরী বি এস সি.  চেয়ারম্যান, ছাগলনাইয়া ইউনিয়ন

    ৩| জনাব এম এ কাদের, সহ-সভাপতি, ছাগলনাইয়া বালিকা বিদ্যালয়

    ৪। জনাব আব্দুল হাই, বিএ.  সাধারণ সম্পাদক, ছাগলনাইয়া বালিকা বিদ্যালয়

    ৫| জনাব  কফিল উদ্দিন আহমদ,  এম এ.  সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাগলনাইয়া বালিকা বিদ্যালয়

     এই কমিটির আহব্বানে ২৭ শে মার্চ অপরাহ্নে ৩.০০ ঘটিকায় ছাগলনাইয়া হাই স্কুলে প্রাঙ্গনে সুধী  সমাবেশ ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।১৯৬৯ সালের ৬ এপ্রিল ১০ ঘটিকার সময় ছাগলনাইয়া হাইস্কুলে এতদঅঞ্চলের  বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষানুরাগী, সচ্ছল ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা ও তরুণ সমাজের আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যারিস্টার  খলিলুল্লাহ  এত অঞ্চলের গ্রামীণ নিম্ন মধ্যবিত্ত,  মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মেধা সম্পন্ন ছাত্রদের জন্য আধা আবাসিক সুশৃংখল পরিকল্পিত পাবলিক স্কুল ধরনের কলেজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব আরোপ করেন। তদার্থে এই এলাকার সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করণে লাইব্রেরী, পাঠাগার, প্রকাশনা ও  চিত্ত বিনোদনের কেন্দ্র নির্মাণ, গরিব ছাত্রদের স্টাইপেন্ড ও স্কলারশিপ প্রদান  এবং শিক্ষার খরচ প্রদানের কর্মসূচি নিয়ে ছাগলনাইয়া কলেজ সমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং বাস্তব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ১৮৬০ সনের সমিতির রেজিস্ট্রেশন আইনের ধারা ২১ মতে ৩২০৬১৬৫  ই পি  ১৯৬৮-৬৯ নম্বরে এই সমিতি নিবন্ধিত হয় |

    ১৯৬৯ সালের ১৬ই এপ্রিল তারিখে ছাগলনাইয়ার তদানীন্তন সার্কেল অফিসার এন এইচ চৌধুরীকে সভাপতি ও ছাগলনাইয়া হাই স্কুলের তদানীন্তন প্রধান শিক্ষক এ.কে শামসুল হুদা কে সেক্রেটারি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সমিতি উহার কর্মসূচির মধ্যে প্রথম ও প্রধানত ছাগলনাইয়া কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার কাজ হাতে নিয়ে অগ্রযাত্রা শুরু করে । এতউদ্দেশ্যে স্থানীয় জনসাধারণ এর নিকট থেকে জমি সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করে স্থানীয় জমিদার বাড়িতে কলেজ স্থাপনের প্রাথমিক প্রচেষ্টায় স্থান লাভে ব্যর্থ হওয়ায় এবং জনাব শামসুল হুদা ছাগলনাইয়া হাই স্কুল থেকে চলে যাওয়ার কিছুদিন পর হেডমাস্টার জালাল উদ্দিন আহমদ সাহেবকে সম্পাদক করে নতুন কমিটির গঠন করা হয় উক্ত কমিটির সময়ে সমিতি একটি ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করে। অতঃপর জনাব সলিমুল্লাহ চৌধুরীকে সেক্রেটারি করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এই কমিটি কলেজের জন্য জমি ও কিছু অর্থ সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে তদানীন্তন মহকুমা  প্রশাসক জনাব বেলাল এ খান সি.এস.সি মহোদয় কে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজের পুকুর খনন ও স্থান ভরাটের কাজ শুরু করে। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর দেশে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পাকা কলেজ ভবন নির্মাণের জন্য সংগৃহীত বেশ কিছু মালামাল হানানাদার বাহিনী তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে ফেলে।

    ১৯৭২ সালে পুনরায় কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফেনীর রাজনৈতিক প্রধান খাজা আহমেদ কে সভাপতি, জনাব সলিমুল্লাহ চৌধুরীকে সম্পাদক, স্থানীয় রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যানবৃন্দ ও অন্যান্যদের কে নিয়ে একটি বড় আকারের কলেজ সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটির প্রচেষ্টায় ছাগলনাইয়া হাই স্কুলে ১৯৭২ সালের ১৪ই আগস্ট তারিখে কলেজের প্রথম শিক্ষা বর্ষ শুরু হয়। রূঢ় হলেও বাস্তব সত্য যে ইতিমধ্যে স্থানীয় একটি প্রতিপত্তিশালী মহল নির্ধারিত স্থানে কলেজ স্থাপনে অহেতুক, অবাঞ্ছিত ও বিতর্কের সূত্রপাত করে। স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে আঞ্চলিক বিবেধ সৃষ্টি করে; যার পরিণতিতে ছাগলনাইয়া কলেজের যাবতীয় সম্পদ  লুণ্ঠিত হয়,  শিক্ষক ও ছাত্ররা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। কলেজ সাংগঠনিক কমিটি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। কলেজের অগ্রযাত্রা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় অধ্যক্ষ সাহেবের প্রস্তাবে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গভর্নিং বডি গঠন করা হয়।

     ১| এস.ডি.ও ফেনী, চেয়ারম্যান

    ২| এ জে এম খলিলুল্লাহ, সদস্য

    ৩| লুৎফুল কবির, সদস্য

    ৪| হাজী আহসানুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ 

    ৫| অধ্যক্ষ, সেক্রেটারি।

    প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয় যে,  ইতিমধ্যে প্রথম অধ্যক্ষ জনাব এম এ নুরুদ্দিন চৌধুরী কোন হিসাবপত্র বুঝিয়ে না দিয়ে অজ্ঞাতসারে সরে পড়েন, বেশ য়েকজন শিক্ষকও চলে যায়। মাত্র এক মাসের অভিজ্ঞ একজন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করে কলেজের কাজ চালাতে হয়। কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ করে কলেজ চালু রাখা ও শিক্ষার পরিবেশ  ফিরিয়ে আনা হয়। উক্ত এড হক কমিটি কলেজের প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট ছিল না বলে কলেজ সমিতি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থা হতে কলেজকে উদ্ধার করার মাধ্যমে এগিয়ে আসে এবং কলেজ পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করে|

    সমিতি নগদে মাত্র ০.৫৩ টাকা ও ব্যাংকে ২৮৫.২৬ টাকা সম্বল করে অপরদিকে কলেজের বেতন বাবদ ৬,০০০ টাকা দেনার দায় কাঁধে তুলে  কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার বিরাট দুটি ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে। কমিটি কলেজের গৃহ নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি ও শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করে এবং আরো প্রয়োজনীয় জমি খরিদ করে। পূর্বে উল্লেখিত পুকুর খনন করা হয়।  বহু বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও এই সময়ের মধ্যে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কলেজ তার রূপলাভ করে। ৩০অক্টোবর ১৯৭৭ খ্রি. পর্যন্ত কলেজের সকল নিয়োগ ও দায় দায়িত্ব এই সমিতি সূচারুরূপে পালন করে।  

    দ্বৈতপরিচালনার সুবিধার দিকসমূহ বিবেচনা করে এবং বেসরকারিভাবে পাবলিক স্কুল ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিপুল ব্যয়ভার বহন করা কঠিন বিধায় এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রত্যাশায় ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম মোতাবেক  কলেজ পরিচালনার ভার সরাসরি স্বীয় নিয়ন্ত্রণ ভূমিকার পরিবর্তে পরোক্ষ  এবং অভিভাবকের ভূমিকাতে সমিতির কার্যকলাপ সীমিত কারার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২৮-০৭-১৯৭৭খ্রি. তারিখের সভায় সমিতির মনোনীত ব্যক্তিরাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কলেজ পরিচালনা করে আসছেন। ১৯৭৭ সালে পরের দৃশ্যত সমিতির কাজ সীমিত হয়ে পড়লেও কলেজের সার্বিক উন্নতি ও বিকাশের জন্য সমিতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা নিরলস রয়েছে। কলেজের প্রয়োজনের তাগিদে ও অধ্যক্ষের অনুরোধে আরো কিছু জমি খরিদ করতে হয়। যার  ফলে ফেনী জেলার শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি কলেজ হিসাবে সর্বস্বীকৃত ছাগলনাইয়া কলেজে এই সমতিরি রয়েছে অনন্য  অবদান।

    ১৯৮৬ সালে জাতীয়করণের মাধ্যমে ছাগলনাইয়া কলেজ, ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • কপিরাইট © 2025 ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজ সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত.
    ডেভেলপ করেছে  স্কিল বেসড আইটি